Bangladesh   Friday, 30 October 2026
Metro 24 News

কামড় খেয়ে জ্যান্ত সাপ বস্তায় ভরে হাসপাতালে হাজির টাঙ্গাইলের কাদের!

কামড় খেয়ে জ্যান্ত সাপ বস্তায় ভরে হাসপাতালে হাজির টাঙ্গাইলের কাদের!

সাপের ছোবল খাওয়ার পরও এক মুহূর্তও ঘাবড়ে যাননি আবদুল কাদের (৫০)। উল্টো মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে ঝোপঝাড় খুঁজে কামড়ানো জ্যান্ত সাপটিকে ধরে বস্তাবন্দী করেন তিনি। এরপর সেই বিষাক্ত সন্দেহের সাপ হাতে ঝুলিয়ে সোজা হাজির হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে!

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন রুদ্ধশ্বাস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। তবে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন সাপটি বিষধর ছিল না।

অবিশ্বাস্য সাহসিকতা দেখানো আবদুল কাদেরের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে আবদুল কাদের জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আঙ্গারগাড়া বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। নির্জন পথে হঠাৎ পায়ে তীব্র দংশন অনুভব করেন। কামড় খেয়ে দিশেহারা না হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পকেট থেকে মুঠোফোন বের করে আলো জ্বেলে সাপটি খুঁজতে শুরু করেন। চোখের পলকে সাপটিকে শনাক্ত করে খালি হাতে ধরেও ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজনকে ডেকে তাদের সহায়তায় সাপটিকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় আটকে ফেলেন। আঙ্গারগাড়া এলাকাটি সখীপুরের সীমান্তবর্তী ও কাছে হওয়ায় কালবিলম্ব না করে চিকিৎসার জন্য তিনি সরাসরি সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছোটেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জ্যান্ত সাপ নিয়ে এক ব্যক্তির প্রবেশের খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে চত্বরে উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমে যায়। অনেকে মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ঝুঁকি এড়াতে আবদুল কাদেরের স্বজনেরা স্থানীয় এক সাপুড়েকে ডেকে এনে সাপটি তার হাতে তুলে দেন।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা সেলিম কবির বলেন, ‘লোকটির সাহস দেখে আমরা রীতিমতো হতবাক হয়েছি। তিনি আস্ত একটি জ্যান্ত সাপ ধরে বস্তায় পুরে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। সাপটি বিষধর নয় বলে নিশ্চিত হওয়ায় তার শরীরে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের প্রয়োজন পড়েনি। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে এই চিকিৎসা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কাউকে সাপে কামড়ালে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়া উচিত। কারণ সাপ ধরতে গেলে পুনরায় দংশনের শিকার হয়ে প্রাণহানির মতো মারাত্মক উল্টো বিপদ ঘটতে পারে।’

Topic : বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

Metro 24 News

Friday, 30 October 2026


কামড় খেয়ে জ্যান্ত সাপ বস্তায় ভরে হাসপাতালে হাজির টাঙ্গাইলের কাদের!

Published : 30 October 2026

featured Image
সাপের ছোবল খাওয়ার পরও এক মুহূর্তও ঘাবড়ে যাননি আবদুল কাদের (৫০)। উল্টো মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে ঝোপঝাড় খুঁজে কামড়ানো জ্যান্ত সাপটিকে ধরে বস্তাবন্দী করেন তিনি। এরপর সেই বিষাক্ত সন্দেহের সাপ হাতে ঝুলিয়ে সোজা হাজির হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে!বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন রুদ্ধশ্বাস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। তবে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন সাপটি বিষধর ছিল না।অবিশ্বাস্য সাহসিকতা দেখানো আবদুল কাদেরের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামে।ঘটনার বিবরণ দিয়ে আবদুল কাদের জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আঙ্গারগাড়া বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। নির্জন পথে হঠাৎ পায়ে তীব্র দংশন অনুভব করেন। কামড় খেয়ে দিশেহারা না হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পকেট থেকে মুঠোফোন বের করে আলো জ্বেলে সাপটি খুঁজতে শুরু করেন। চোখের পলকে সাপটিকে শনাক্ত করে খালি হাতে ধরেও ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজনকে ডেকে তাদের সহায়তায় সাপটিকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় আটকে ফেলেন। আঙ্গারগাড়া এলাকাটি সখীপুরের সীমান্তবর্তী ও কাছে হওয়ায় কালবিলম্ব না করে চিকিৎসার জন্য তিনি সরাসরি সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছোটেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জ্যান্ত সাপ নিয়ে এক ব্যক্তির প্রবেশের খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে চত্বরে উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমে যায়। অনেকে মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ঝুঁকি এড়াতে আবদুল কাদেরের স্বজনেরা স্থানীয় এক সাপুড়েকে ডেকে এনে সাপটি তার হাতে তুলে দেন।সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা সেলিম কবির বলেন, ‘লোকটির সাহস দেখে আমরা রীতিমতো হতবাক হয়েছি। তিনি আস্ত একটি জ্যান্ত সাপ ধরে বস্তায় পুরে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। সাপটি বিষধর নয় বলে নিশ্চিত হওয়ায় তার শরীরে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের প্রয়োজন পড়েনি। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে এই চিকিৎসা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কাউকে সাপে কামড়ালে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়া উচিত। কারণ সাপ ধরতে গেলে পুনরায় দংশনের শিকার হয়ে প্রাণহানির মতো মারাত্মক উল্টো বিপদ ঘটতে পারে।’

Metro 24 News

Publisher & Editor:Majedur Rahman
Copyright © Metro 24 News