বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় সদর উপজেলা ছাত্রদলের একটি কর্মসূচিতে শহর ছাত্রদলের সদস্য মাশরুর ইসলামকে মারধর, চশমা ভাঙচুর ও শার্ট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেদোয়ানুল ইসলাম আকিবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আকিবকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বগুড়া জেলা ছাত্রদল।
সোমবার (২ নভেম্বর) দেওয়া ওই নোটিশে আকিবকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা ছাত্রদলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রহমান সন্ধান ও সাধারণ সম্পাদক এম আর রায়হান পলাশের নির্দেশক্রমে নোটিশটি পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী মাশরুর ইসলামের অভিযোগ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রহমান সন্ধানের আমন্ত্রণে সদর উপজেলা ছাত্রদলের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এ ঘটনার শিকার হন।
মাশরুর জানান, মাটিডালী এলাকায় আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সন্ধানের ডাকে তিনি উপস্থিত হন। একপর্যায়ে সন্ধান ব্যক্তিগত কাজে বাইরে গেলে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকিব তাকে ডেকে নিয়ে এলাকার রাজনীতি ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। এ সময় তার বাবার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সন্ধানকে জানাতে চাইলে আকিব ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে তাকে মারধর করা হয়। এতে তার চশমা ভেঙে যায় এবং পরনের শার্ট ছিঁড়ে যায়। এ সময় সদর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমদাদুল তাকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করেন মাশরুর। তিনি জানান, লিসান নামের এক নেতার পোস্টে মন্তব্য করে লিখেছিলেন, ‘ভাই, আপনাকে ছাড়া সদর উপজেলা ছাত্রদল মানায় না।’ ওই মন্তব্যের জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকিব। তিনি দাবি করেন, মাশরুর আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এ বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে। ছাত্রদলের কমিটি গঠনের সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও তার বিরুদ্ধে তথ্য ও ছবি উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে জানান আকিব।
আকিবের আরও অভিযোগ, পরে মাশরুর শহর ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সদর উপজেলা ছাত্রদল নিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক কথা বলতেন। ঘটনার দিন মশক নিধন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে মাশরুর পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ নিয়ে তার কর্মীদের সঙ্গে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আকিব বলেন, “মারধর না, এই ধস্তাধস্তি। মারধরের ওই রকম তো কিছু হয় নাই।”
এদিকে, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ সোহান ইসলামের পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, সদর উপজেলা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে আসীন থাকা অবস্থায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আকিবের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগী মাশরুর ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে একজন নেতাকর্মীর ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নোটিশের বিষয়ে আকিবের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন এবং তা দেখেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার জবাবের পর সংগঠন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনো জানা যায়নি।

Monday, 2 November 2026
Published : 2 November 2026

আপনার মতামত লিখুন