Bangladesh   Sunday, 1 November 2026
Metro 24 News

বগুড়ার নদীগুলো ফিরে পাবে হারানো যৌবন, চলতি মাসেই খনন উদ্বোধনের সম্ভাবনা

বগুড়ার নদীগুলো ফিরে পাবে হারানো যৌবন, চলতি মাসেই খনন উদ্বোধনের সম্ভাবনা

"করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ; দুই তীরে ওয়াকওয়ে ও বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা" 

বগুড়ার করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদী খনন ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ চলতি নভেম্বর মাসেই শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে চলতি মাসেই প্রকল্পটির উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার করতোয়া নদীর এসপি ঘাট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদী সংস্কার প্রকল্পের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রায় ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নদীর দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বগুড়া শহরের সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন ঘটবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীগুলোর ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বগুড়াকে নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীর এক পাশে বর্তমানে ওয়াকওয়ে থাকলেও প্রকল্পের আওতায় অন্য পাশেও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে বগুড়ার মানুষ নতুন এক শহর দেখতে পাবেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে করতোয়া নদীর তীরে ব্লক স্থাপন ও নদীটির পূর্ণাঙ্গ খননকাজ উদ্বোধনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। রোববার বিকেলে বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে নদীর তীরবর্তী এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তিনি।

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী নদীর তীর সংরক্ষণে ব্লক স্থাপন ও পূর্ণাঙ্গ খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সম্ভাব্য স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে করতোয়া নদী তার ঐতিহাসিক নাব্যতা ফিরে পাবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধ, বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশব্যাপী নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বগুড়ায় মোট ২৯৪ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ছয় কিলোমিটার খননকাজ চলমান রয়েছে।

নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। কোন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে এবং কোন নদী থেকে যাবে না, তা নির্ধারণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দেশের নদীগুলো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশন কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নদী পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Metro 24 News

Sunday, 1 November 2026


বগুড়ার নদীগুলো ফিরে পাবে হারানো যৌবন, চলতি মাসেই খনন উদ্বোধনের সম্ভাবনা

Published : 1 November 2026

featured Image
"করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ; দুই তীরে ওয়াকওয়ে ও বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা" বগুড়ার করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদী খনন ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ চলতি নভেম্বর মাসেই শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে চলতি মাসেই প্রকল্পটির উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার করতোয়া নদীর এসপি ঘাট পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি জানান, করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদী সংস্কার প্রকল্পের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রায় ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নদীর দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বগুড়া শহরের সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন ঘটবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীগুলোর ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বগুড়াকে নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীর এক পাশে বর্তমানে ওয়াকওয়ে থাকলেও প্রকল্পের আওতায় অন্য পাশেও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে বগুড়ার মানুষ নতুন এক শহর দেখতে পাবেন।এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে করতোয়া নদীর তীরে ব্লক স্থাপন ও নদীটির পূর্ণাঙ্গ খননকাজ উদ্বোধনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। রোববার বিকেলে বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নে নদীর তীরবর্তী এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তিনি।এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী নদীর তীর সংরক্ষণে ব্লক স্থাপন ও পূর্ণাঙ্গ খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সম্ভাব্য স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে করতোয়া নদী তার ঐতিহাসিক নাব্যতা ফিরে পাবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধ, বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।দেশব্যাপী নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বগুড়ায় মোট ২৯৪ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ছয় কিলোমিটার খননকাজ চলমান রয়েছে।নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। কোন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে এবং কোন নদী থেকে যাবে না, তা নির্ধারণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দেশের নদীগুলো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন।এর আগে প্রতিমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশন কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নদী পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Metro 24 News

Publisher & Editor:Majedur Rahman
Copyright © Metro 24 News