Print Date : 28 October 2026 ||
Published Date : 27 October 2026
ঝিনাইদহে পুলিশের যোগসাজশে সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ
||
মেট্রো ২৪ নিউজ ডেস্কঃ ঝিনাইদহে সরকারি কলেজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর জেলা প্রতিনিধি অরিত্র কুমার কুণ্ডু ও তার সহযোগী হাবিবুর রহমান রুবেল। অরিত্র কুন্ডুর বাবার অভিযোগ, স্থানীয় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার নিউজ করায় তাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ সরকারি নুরুননাহার মহিলা কলেজ চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। কলেজে প্রথমে তাদের রড দিয়ে পেটানো হয়। পরে আহত দুই সাংবাদিককে সকাল ১১টার দিকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। অথচ তাদের নামে চাঁদাবাজির মামলা হয় বিকেলে। 'মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতে পারে' এমন শঙ্কায় চলতি মাসে অরিত্র জিডিও করে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হলো।ভুক্তভোগী সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ডুর বাবা কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ছেলে ডিবির ওসিকে নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ করে। এই ঘটনায় ঝিনাইদহের পুলিশ-প্রশাসন ক্ষিপ্ত হয়। এরপর এই কলেজে নিউজের কথা বলে তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর পুলিশ অধ্যক্ষকে দিয়ে মামলা করাতে বাধ্য করেছে।’মামলার বাদী বিজয়ন কুমার সরকারের বক্তব্যেও রহস্যের ইঙ্গিত মিলেছে। মঙ্গলবার রাতে এই প্রতিবেদক মামলাটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো এভাবে আপনাকে বিস্তারিত বলতে পারবো না। আপনাকে সামনাসামনি আসতে হবে।’অরিত্রের বাবা দাবি করেছেন, সদর থানার ওসি আপনাকে মামলা করতে বাধ্য করেছেন, এটা সত্য কি না এবং ওই সাংবাদিক চাঁদা চেয়েছে এমন কোনো প্রমাণ আপনার কাছে আছে কি না-এই প্রশ্নের জবাবেও একই কথা বলেন তিনি, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’গত ১০ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশে ‘ডিবি পুলিশের মাদক কারবার নিয়ে সংবাদ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘ঝিনাইদহে মাদক নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে দেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার অরিত্র কুণ্ডুকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কিছু সদস্য এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।সোমবারের ঘটনার বিষয়ে অন্য সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, সরকারি নুরুননাহার মহিলা কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল ও ড্রেন নির্মাণের সরকারি ইট গায়েব করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে যান অরিত্র কুণ্ডু ও ‘বাংলা-৭১’-এর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান রুবেল। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর একটি চক্র তাদের পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।আহত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে থানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ডু উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘কলেজের বাউন্ডারি ওয়ালের সরকারি ইট সরিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার লাইভ ও সচিত্র সংবাদ সংগ্রহ করতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে অনিয়মের সব প্রমাণ রয়েছে। এই অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢাকতেই কলেজের অধ্যক্ষের মদদে বহিরাগত একটি চক্র আমাদের ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করেছে। এখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে আমাদের নামে উল্টো মিথ্যা চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে।’এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা অধ্যক্ষ বিজয়ন কুমার সরকারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় হুমকি দেওয়া হলে স্থানীয় জনতা তাদের গণপিটুনি দেয়। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে কলেজের অধ্যক্ষের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে।স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সত্য প্রকাশে বাধা দিতেই সাংবাদিকদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
Publisher & Editor: MAJEDUR RAHMAN
Copyright © Metro 24 News